ভারতে মৌসুমের শুরুতে চিনি উৎপাদন বেড়েছে ৪৮ শতাংশ

নতুন মৌসুমের শুরুতেই ভারতের চিনি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

নতুন মৌসুমের শুরুতেই ভারতের চিনি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমের ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন মিল মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮ শতাংশ। গতকাল ভারতের ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ (এনএফসিএসএফ) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ভারতজুড়ে ৩২৫টি চিনি মিল আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু করেছে। গত বছরের একই সময় সক্রিয় মিলের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪৪।

এনএফসিএসএফ আরো জানায়, আখ সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌসুমের মোট নিট চিনি উৎপাদন বেড়ে ৩ কোটি ১৫ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। এর মধ্যে ৩৫ লাখ টন আখ ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার হবে।

এর আগে নতুন মৌসুমে ১৫ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমোদন দিয়েছে ভারত। এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে দেশটি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার কমানো হবে। ফলে ভারতে পণ্যটির উদ্বৃত্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারত। বিশ্ববাজারে বর্তমানে পণ্যটির দাম পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভারত থেকে রফতানি বাড়লে নিউইয়র্ক ও লন্ডনের বাজারে চিনির দাম আরো কমতে পারে।

ভারত সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত তিন মৌসুমের গড় উৎপাদনের ভিত্তিতে প্রো-রাটা পদ্ধতিতে (কোনো সম্পদ বা কোটা অংশের অনুপাতে ভাগ করার পদ্ধতি) কার্যক্রম চালানো চিনিকলগুলোর মধ্যে রফতানি কোটাটি বণ্টন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা এ অনুমোদনের ভিত্তিতে সব গ্রেডের চিনি রফতানি করতে পারবেন।

২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ভারত ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রফতানিকারক দেশ। এর আগে দেশটি বছরে গড়ে ৬৮ লাখ টন চিনি রফতানি করত। তবে খরাপ্রবণ মৌসুমের কারণে ২০২৩-২৪ সালে ভারত সরকার চিনি রফতানি নিষিদ্ধ করে। গত বছর দেশটি মাত্র ১০ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমোদন দেয়।

ভারত সরকার জানায়, বরাদ্দ পাওয়া চিনিকলগুলো ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি বা পুনঃরফতানি প্রতিষ্ঠান ও রিফাইনারির মাধ্যমে তাদের বরাদ্দ কোটা অনুযায়ী চিনি রফতানি করতে পারবে।

যেসব মিল বরাদ্দ অনুযায়ী, রফতানি কোটার ব্যবহার করতে চাইবে না, সেসব প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে তা সরকারকে ফেরত দিতে পারবে। অব্যবহৃত কোটাগুলো পরবর্তী সময়ে অন্যান্য মিলের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে।

আরও